অ্যাপার্টমেন্টের সার্ভিস চার্জ কীভাবে হিসাব করবেন: ফ্ল্যাট মালিক সমিতির গাইড
সার্ভিস চার্জ নিয়ে অ্যাপার্টমেন্ট কমিটির মিটিংয়ে সবচেয়ে বেশি তর্ক হয়: কোন খরচ এতে পড়ে, কীভাবে ভাগ হবে, আর টাকাটা কোথায় গেল। একটা পরিষ্কার নিয়ম আর খোলা হিসাব থাকলে তর্কের বেশির ভাগই থামে।
সার্ভিস চার্জে সাধারণত কী কী থাকে
সার্ভিস চার্জ হলো বিল্ডিংয়ের সবার ভাগের খরচ — যা কোনো একটা ফ্ল্যাটের নয়, সবার। সাধারণত এগুলো:
- ✓স্টাফের বেতন — দারোয়ান, কেয়ারটেকার, পরিচ্ছন্নতাকর্মী।
- ✓লিফট আর জেনারেটর — রক্ষণাবেক্ষণ, তেল, ছোট মেরামত।
- ✓কমন এরিয়ার বিদ্যুৎ আর পানি — সিঁড়ি, ছাদ, গ্যারেজ, পাম্প।
- ✓পরিষ্কার আর ছোট মেরামত — বাল্ব, পাইপ, রং ছোঁয়ানো।
- ✓নিরাপত্তা — সিসি ক্যামেরা বা গেটের তালার মতো খরচ।
বড় কাজ — লিফট বদলানো, পুরো বিল্ডিং রং করা — সাধারণত মাসিক সার্ভিস চার্জে না রেখে আলাদা তহবিলে রাখা ভালো। নিচে দেখুন।
ভাগ করার তিনটা সাধারণ নিয়ম
| নিয়ম | কীভাবে | কখন মানানসই |
|---|---|---|
| সমান ভাগে | মোট খরচ ÷ ফ্ল্যাটের সংখ্যা | সব ফ্ল্যাট প্রায় একই মাপের হলে |
| আয়তন অনুযায়ী | মোট খরচ ÷ মোট বর্গফুট × ফ্ল্যাটের বর্গফুট | ফ্ল্যাটের মাপে বড় পার্থক্য থাকলে |
| ফ্ল্যাটের ধরন অনুযায়ী | ছোট-মাঝারি-বড় ধরনের জন্য আলাদা হার | কয়েক ধরনের ফ্ল্যাট থাকলে, সহজ রাখতে চাইলে |
কোনটা নেবেন তা সমিতির সাধারণ সভায় ঠিক করে লিখে রাখুন। নিয়মটা লেখা থাকলে নতুন মালিক বা ভাড়াটিয়া এলেও প্রশ্ন ওঠে না।
একটা উদাহরণ
ধরুন 20টা ফ্ল্যাটের একটা বিল্ডিং, মোট 24,000 বর্গফুট। মাসে কমন খরচ: স্টাফের বেতন 30,000 টাকা, লিফট আর জেনারেটর 12,000 টাকা, কমন বিদ্যুৎ-পানি 10,000 টাকা, পরিষ্কার আর মেরামত 8,000 টাকা — মোট 60,000 টাকা।
| ফ্ল্যাট | সমান ভাগে | আয়তন অনুযায়ী (2.5 টাকা/বর্গফুট) |
|---|---|---|
| 800 বর্গফুট | 3,000 টাকা | 2,000 টাকা |
| 1,200 বর্গফুট | 3,000 টাকা | 3,000 টাকা |
| 1,600 বর্গফুট | 3,000 টাকা | 4,000 টাকা |
সমান ভাগে ছোট ফ্ল্যাটের মালিক বেশি দেন; আয়তন অনুযায়ী বড় ফ্ল্যাটের মালিক বেশি দেন। দুটোই ন্যায্য হতে পারে — আসল কথা হলো সবাই আগে থেকে জানেন কোন নিয়ম চলছে।
সংরক্ষিত তহবিল: বড় খরচের জন্য আলাদা টাকা
লিফট বদলানো বা পুরো বিল্ডিং রং করার মতো খরচ হঠাৎ এলে একবারে বড় অঙ্ক তুলতে হয়, আর তখনই আপত্তি ওঠে। তার চেয়ে প্রতি মাসে অল্প অল্প করে আলাদা একটা তহবিলে চাঁদা রাখা ভালো।
এই চাঁদা মাসিক সার্ভিস চার্জ থেকে আলাদা রাখুন — আলাদা খাতায়, যাতে কে দিলেন আর কে বাকি, তা পরিষ্কার থাকে।
খোলা হিসাব: সবাই যেন একই সংখ্যা দেখেন
প্রতি মাস শেষে সবাইকে একটা ছোট হিসাব দিন: কত সার্ভিস চার্জ উঠল, কোন খাতে কত খরচ হলো, কার কত বাকি, তহবিলে কত জমা। হিসাব খোলা থাকলে সন্দেহ কমে, আর পরের কমিটি দায়িত্ব নিলেও কিছু হারায় না।
MyBasha দিয়ে সমিতির হিসাব
পুরো সফটওয়্যারটা কেমন, জানতে পড়ুন অ্যাপার্টমেন্ট ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার কী। সমিতির কাজে যা লাগে:
- 1সার্ভিস চার্জ মাসিক বিলে। মাসের 1 তারিখে সব ফ্ল্যাটের বিল একসাথে যায়।
- 2কে দিলেন, কে বাকি — এক নজরে। বকেয়া থাকলে অ্যাপ নিজেই মনে করিয়ে দেয়।
- 3খরচ লিখে রাখুন। বিদ্যুৎ, মেরামত, বেতন — মাস শেষে কত এল, কত গেল।
- 4তহবিলের চাঁদা আলাদা। কমিটির ফান্ডে কে দিলেন, কে বাকি (Paid প্ল্যানে); কমিটির সদস্যদের তালিকাও।
আপনার সমিতির হিসাব এক জায়গায়।
1টা বিল্ডিং আর 5টা ফ্ল্যাট পর্যন্ত চিরকাল ফ্রি; চাঁদা, কমিটি আর স্টাফ Paid প্ল্যানে।
প্রশ্ন-উত্তর
কোন নিয়মে সার্ভিস চার্জ ভাগ করা সবচেয়ে ভালো?
একটা সঠিক উত্তর নেই। ফ্ল্যাটগুলো প্রায় একই মাপের হলে সমান ভাগ সহজ; মাপে বড় পার্থক্য থাকলে আয়তন অনুযায়ী ভাগ বেশি ন্যায্য মনে হয়। সাধারণ সভায় ঠিক করে লিখে রাখুন।
খালি ফ্ল্যাটের সার্ভিস চার্জ কে দেবেন?
সাধারণত ফ্ল্যাটের মালিক, কারণ কমন খরচ ফ্ল্যাট খালি থাকলেও চলে। সমিতির নিয়মে এটা লিখে রাখুন।
ভাড়াটিয়া না মালিক — সার্ভিস চার্জ কে দেবেন?
এটা মালিক আর ভাড়াটিয়ার চুক্তির বিষয়। ভাড়ার চুক্তিতে পরিষ্কার লিখে রাখুন, তাহলে পরে প্রশ্ন ওঠে না।
MyBasha কি ফ্ল্যাট মালিক সমিতির জন্যও?
হ্যাঁ। সার্ভিস চার্জ মাসিক বিলে যায়, খরচের হিসাব রাখা যায়, আর Paid প্ল্যানে কমিটির ফান্ডের চাঁদা, কমিটির সদস্য আর স্টাফ — সব এক জায়গায়।
আপনার বিল্ডিং আজই যোগ করুন
Free প্ল্যানে শুরু করুন। বিল্ডিং বা ফ্ল্যাট বাড়লে তখন আপগ্রেড করুন।
ফ্রিতে শুরু করুন →